শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৫১ অপরাহ্ন
নিজেস্ব প্রতিবেদক,ঢাকাঃ দেশের সাংবাদিকতা জগতে এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের নাম সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি। তাঁদের সাত বছরের শিশুপুত্র মেঘ তখন বাসাতেই ছিল।
সাগর সারওয়ার ছিলেন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক এবং মেহেরুন রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। হত্যাকাণ্ডের পর বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পাওয়া যায়, যা রহস্য ঘনীভূত করে। পুলিশ প্রথমে দাবি করে এটি চুরির উদ্দেশ্যে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, কিন্তু পরবর্তীতে তদন্তে দেখা যায় এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
হত্যার ধরন দেখে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেন, হত্যাকারীরা পেশাদার ছিল এবং সম্ভবত তাদের পরিচিত কেউ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তদন্ত কর্মকর্তারা একাধিক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করলেও আজ পর্যন্ত প্রকৃত হত্যাকারীদের চিহ্নিত করতে পারেনি।
২০১২ সালে হত্যাকাণ্ডের পর সরকার তাৎক্ষণিকভাবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যারহস্য উদঘাটনের প্রতিশ্রুতি দিলেও আজ অবধি তা বাস্তবায়ন হয়নি। বারবার তদন্তের সময় বাড়ানো হলেও, তদন্তকারী সংস্থা র্যাব এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।
দেশের সাংবাদিক সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল মহল থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, সরকারের অবহেলা ও ফ্যাসিবাদী দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত হচ্ছে না।
শুধু সাগর-রুনি নয়, এমন হাজারো সাংবাদিক রয়েছেন যাঁদের ওপর হামলা, নির্যাতন বা হত্যার সুষ্ঠু বিচার হয়নি। সরকারের বিভিন্ন মহলের ছত্রছায়ায় অনেক অপরাধী রয়ে গেছেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এতে দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষা করা গণতন্ত্রের অন্যতম পূর্বশর্ত। এ বিষয়ে রাষ্ট্রকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে, অন্যথায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ধীরে ধীরে সংকুচিত হবে।
সাগর-রুনি হত্যার সঠিক বিচার কবে হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা। তবে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরও অনেক সাংবাদিককেই একই পরিণতির শিকার হতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও ঘটনার বিশদ বিবরণ সংযোজন করা হয়েছে। আপনি যদি আরও কিছু সংযোজন বা পরিবর্তন চান, জানাবেন।