বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৫৭ অপরাহ্ন
✍ আসিফ সেতু:
প্রকাশক ও সম্পাদক, যশোর জার্নাল||
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মতবিরোধের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা। তবে সময় এসেছে দল-মত নির্বিশেষে একটি সুন্দর ও গঠনমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার। দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সংরক্ষণের স্বার্থে এখন প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ জাতীয় প্রচেষ্টা।
রাজনীতি মানেই শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; বরং দেশ ও জনগণের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। মতের পার্থক্য থাকবেই, কিন্তু সেটি যদি শালীনতা ও সৌজন্যের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়, তাহলে গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। আমরা অতীতে অনেকবার দেখেছি, বিভাজন ও বিদ্বেষের রাজনীতি কেবল অস্থিরতাই ডেকে আনে, যা কোনোভাবেই দেশকে এগিয়ে নিতে পারে না।
নতুন দিনের রাজনীতি হওয়া উচিত উন্নয়ন, মানবাধিকার, সুশাসন ও গণতন্ত্রের আদর্শের ওপর ভিত্তি করে। প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে যদি রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের জন্য কাজ করে, তবে দেশ আরো দ্রুত সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে।
আজকের বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া এই অগ্রগতি ধরে রাখা সম্ভব নয়। সুন্দর রাজনৈতিক আহ্বান বলতে আমরা বোঝাতে চাই এমন এক পরিবেশ, যেখানে মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু সেটি হবে যুক্তিবাদী ও সহনশীল। সংসদ, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে একত্রে কাজ করে গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর করতে হবে।
আমরা আশা করি, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ এমন এক দেশ হবে, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, কিন্তু সেটি হবে গঠনমূলক, যেখানে ব্যক্তি স্বার্থ নয়, জনগণের স্বার্থই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আসুন, আমরা সবাই মিলিতভাবে একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলি—যেখানে থাকবে সংলাপ, সহযোগিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা।
দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ রাজনীতি—এটাই হোক আমাদের মূল আহ্বান।