বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৫৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কবৃদ্ধি, ভারত-পাকিস্তানের চেয়েও বেশি | যশোর জার্নাল অভয়নগরে ঈদ মেলায় ফুচকা খেয়ে অসুস্থতা: দোকানি গ্রেফতার | যশোর জার্নাল সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যা: বিচারের অপেক্ষায় এক যুগ | যশোর জার্নাল নরসিংদীতে গণপিটুনির প্রতিবাদ করায় দুই ভাইকে হত্যা | যশোর জার্নাল যশোরে ঈদের দিন সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত চারজন | যশোর জার্নাল যশোরে যুবকের লাশ উদ্ধার: পাশে মোটরসাইকেল ও কাঠের টুকরা |যশোর জার্নাল যশোরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেফতার | যশোর জার্নাল সড়কে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সাথে ইফতার করলেন পুলিশ সুপার যশোর | যশোর জার্নাল যশোরে শিশু অপহরণের মূলহোতা আটক, মুক্তিপণের টাকা উদ্ধার | যশোর জার্নাল নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে ঈদ উপহার দিলেন যশোর জেলা পুলিশ | যশোর জার্নাল

মনিরামপুরে টিসিবি কার্ডে অনিয়ম: বঞ্চিত প্রকৃত দাবিদাররা | যশোর জার্নাল

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ

পূর্বেও পাইনি এখনো বঞ্চিতঃ
ধর্নাঢ্য ও আ”লীগ পন্থীদের নামে টিসিবি স্মার্ট কার্ড,স্থগিত করে নবায়নের দাবী
মামুন হোসেন ,মণিরামপুরঃ যশোরের মণিরামপুর পৌর শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সন্দীপ চৌধুরী যার পৌরশহরে নিজস্ব জমিতে ২ তলা বাড়ি।মণিরামপুর বাজারের ব্যবসায়ী থেকে এলিট শ্রেনীর লোকজনের কাছে তিনি একজন বিত্তশালী লোক।অভাব বা টানাটানি অবস্থা তার সাংসারিক জীবনে কখনো এসেছে বলে মনে করতে পারেন না প্রতিবেশীরা,এমনকি তার পরিবারের কোন সদস্যও পড়েনি কোন সংকটময় মুহূর্তে।এরপরও সন্দীপের নামে ইস্যু হয়েছে নিম্ন-মধ্যবিত্তের জন্য বরাদ্দকৃত টিসিবির স্মার্ট কার্ড।বিগত বছরগুলোতেও ভোগ করে আসছেন টিসিবর এই সেবা।অনুসন্ধানে পাওয়া গেলো তিনি মণিরামপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড( মণিরামপুর) এর বাজারস্ত চৌধুরী জুয়েলার্সের মালিক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আ”লীগ নেতা বাবুলাল চৌধুরী ভাই।খবর নিয়ে জানা গেলো শুধু সন্দীপ না কাউন্সিলরের চাচাতো ভাইয়ের বউ সোনালী চৌধুরীর নামেও আছে টিসিবির স্মার্ট কার্ড।কাউন্সিলর নিজের নামে না করলেও স্ত্রী কাকলী চৌধুরীর নামে টিসিবি স্মার্ট কার্ড নবায়ন করতে ভুল করেন নি।এখানেই শেষ না!! পৌরসভার ১নং হাকোবা ওয়ার্ডের নজরুল ইসলামের নামে আছে কার্ড যিনি ২টা মাটি কাটা স্কো মেশিন,মাইক্রো,স্যালোমেশিনের দোকানের মালিক আবার ১ছেলে ব্যাংকার,আছে ৫ তলা বাড়ি।টিসিবির এ কার্ডধারী মালিক হচ্ছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলুর ভগ্নীপতি।সে কোটাই তালিকাতে পাই টিসিবির সেবা।
পোরসভার ৫নং ওয়ার্ড তাহেরপুরেও একই চিত্র!দাস পাড়ার আরেক বিত্তশালী পরিবারের নির্মল দাস ওয়ার্ড আ”লীগের একনিষ্ট কর্মী যার বাড়িতে গোয়ালভরা গরু, পৌরসভার ভিতরে মাঠ ও বাড়ি মিলিয়ে জমি আছে বিঘা ১৫-১৬!তাহেরপুরের ধনীদের তালিকায় সুপার ৫ এর ৩নং তার অবস্থান।
এরকম স্বজনপ্রীতি,লীগ কোটা,অব্যাবস্থাপনার চিত্র ২নং গাংড়া,৪নং দূর্গাপুর,৬নং জুড়ানপুর,৭নং মোহনপুর,৮নং কামালপুর ও ৯নং বিজয়রামপুর সমস্ত পৌরসভা জুড়ে অনুসন্ধানী এ প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে নিম্নবিত্তের প্রতি অবিচারের টিসিবি সেবার তথ্য।অপরদিকে নিম্ন-মধ্যবিত্তের টিসিবির সেবার খোজ না নিলেও অভিযোগের অন্ত নেই পুরো মণিরামপুর পৌরসভা এবং উপজেলাব্যাপী।
১নং হাকোবা ওয়ার্ডের ভোটার ইজিবাইক চালক সোহাগ হোসেন,৪নং দূ্র্গাপুরের মাছ বাজারের শ্রমীক রোস্তম,৫নং তাহেরপুরের চায়ের দোকানদার আবু বাক্কার,৯নং বিজয়রামপুরের মটরসাইকেল মেকানি রবিউল,এমন শত শত মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্ত, দিন মজুর,ছোট ছোট ব্যবসায়ী জানিয়েছেন প্রকৃত দাবীদার হওয়া সত্তেও তাদের নামে টিসিবির স্মার্ট কার্ড নবায়ন না হওয়ার ক্ষোভ।অনুসন্ধান বলছে এমন দলীয়করণ,স্বজনপ্রীতির,নিজেদের ইচ্ছামত নবায়নকৃত কার্ডের তালিকাগুলো তৎকালীন আ”লীগের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা করেছেন।টিসিবির কার্ড নবায়নে সবচেয়ে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন মণিরামপুর পৌরসভার সমালোচিত সাবেক সচিব কামাল হোসেন।এতটাই জঘন্য অপরাধ করেছিলেন যে টিসিবি কান্ডে অপরাধে সম্পৃক্ততার কারনে মামলাও খেয়েছিলেন মণিরামপুরে এক যুগেরও বেশি সময় পার করা সৈরাচারের দোসর সচিব কামাল।তবে মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের কয়েকজন সাংবাদিকের এ অনুসন্ধান বলছে কলঙ্কিত এ টিসিবি কান্ডে সচিব কামালের মতো সারা দেশেই পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ে এমন কামাল শতশত ছিলো।তার জন্য বানিজ্য মন্তনালয়ের এই টিসিবি কান্ড হয়েছে বিতর্কিত।
হ য ব র ল অবস্থায় বর্তমানে কর্তৃপক্ষ বলছে ২০২১-২০২২ সালের নবায়নকৃত কার্ড গুলোই স্মার্ট হয়ে আসছে।উপজেলা প্রশাসন বলছেন তারা শুধু সরকারের নির্দেশনা পালন করে চলেছেন।
টিসিবির এমন জটিলতা নিয়েই ইতিমধ্য চলতি মাসের গত সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে দেশব্যাপী সুলভমূল্যে(টিসিবি) পন্যের ক্রেতাদের স্মার্ট কার্ড বিতরণ ও নির্দিষ্ট কার্ডধারীদের মাঝে পণ্য বিক্রয়ের কর্মসূচি।জাতীয় ভাবে পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ে এ সমস্ত কার্ড বিতরণ করছে স্ব স্ব উপজেলা ও পৌরসভার স্থানীয় প্রশাসন।এ মাসের প্রথম পর্যায়ে টিসিবির কার্ড নবায়ন ও বিতরণে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের সম্পৃক্ততার কারনে প্রশাসনের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হলে নবায়ন বন্ধ করে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপ বাঁধা সৃষ্টি করছে এ মর্মে স্থানীয় উপজেলা ও পৌরসভা প্রশাসন উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দারস্থ হয়। সেক্ষেত্রে কোন ধরনের জটিলতায় এ কার্যক্রম যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় তার জন্য রাজনৈতিক দল বিএনপির সহ কয়েকটি সংগঠন কেন্দ্র থেকে প্রতিটি ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের টিসিবি কান্ডে সম্পৃক্ততার বিষয়ে সরারসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।এমন কি সম্পৃক্ততা পেলে স্ব পদ হতে বহিষ্কার দেওয়ার ঘোষনাও দিয়েছে।তথ্যমতে দেশব্যাপী যে সমস্ত কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে তা সবই ২০২১/২০২২ইং সালের নবায়নকৃত।যার ৮০% কার্ডধারী উচ্চবিত্তশালী ও বিগত আ”লীগ সমার্থিতদের।সে সুবাদে দেখা যায়,২০২২ সালে যে বা যারা টিসিবি স্মার্ট কার্ডের নবায়ন করেছে তারা সবাই আ”লীগ পন্থী এবং যাদের নামে কার্ড তারা অধিকাংশ সবাই বিত্তশালীও বটে।
গত ১৯শে মার্চ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মণিরামপুরে এক পৌরসভা ও ১৭ ইউনিয়নে ২০২২ সালের নবায়নকৃত কার্ডের সংখ্যা ২১৬২৬টির বিপরীতে ভ্যারিফায়েড টিসিবির স্মার্ট কার্ডের সংখ্যা ১৪৫৮০টি। এরই মধ্য বিগত আ”লীগ আমলের এহেন কর্মকান্ডের বিপরীতে গতকাল পোরসভার ৫,৬,৭ নং ওয়ার্ডে শুরু হয়েছে টিসিবির পণ্য বিক্রি।
কৌতুহল বসত পার্শবর্তী উপজেলা গুলোতেও খোজ নিয়ে জানা গেলো শুধু মণিরামপুর না গোটা দেশেই এই টিসিবির স্মার্ট কার্ড নিয়ে চলছে নানান জল্পনা-কল্পনা।যার প্রধান কারন হলো সম্পূর্ণ অব্যবস্থাপনার কার্যক্রম।
অনুসন্ধান শেষে এটা প্রতীয়মান যে ২০২২ সালের নবায়নকৃত কার্ডের ভুক্তভোগীদের সাথে করা হয়েছে অবিচার।ভুক্তভোগীরা অভিযোগ তুলছে সৈরাচারী শাসনমালেও তারা কার্ড পাইনি,আবার সৈরাচার চলে যাওয়ার পরও এখনো তারা বঞ্চিত হচ্ছে এ সেবা থেকে।এমনকি ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের এ কার্যক্রম স্থগিত করে টিসিবির দাবীদারদের সঠিক তালিকা করার দাবী তুলছে সুবিধাবঞ্চিত নিম্ন-মধ্যবিত্তরা।
এ সমস্ত বিষয় নিয়ে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না’র সাথে আলোচনা করলে তিনি জানালেন,এটা একটা চলমান সরকারি প্রক্রিয়া।সাংবাদিকদের সাথে সহমত প্রকাশ করে তিনিও বললেন এটা জাতীয় একটি ইস্যু।স্থানীয়ভাবে না এটা জাতীয় ভাবে পরিচালিত হওয়ায় নির্দেশনা মানতে চলমান এ কার্যক্রম গতানুগতিক এগিয়ে যাচ্ছে।
সবকিছু ছাপিয়ে,জাতীয় সমস্যা হিসাবে চলমান এ কার্যক্রমে ভুক্তভোগী ও টিসিবি সেবা বঞ্চিতদের সাথে সহমত পোষণে ক্ষোভ প্রকাশ করে সৈরাচারী আমলের নবায়নকৃত এ টিসিবির স্মার্ট কার্ডের কার্যক্রম স্থগিত করে সম্পূর্ন নতুন করে প্রকৃত দাবীদারদের নাম তালিকাভুক্ত সহকারে দেশব্যাপী টিসিবির কার্ড নবায়ন ছাড়া সঠিক সমাধানের অন্য কোন পথ দেখছেন না সুশীলসমাজ ও নিতীনির্ধারক শ্রেণীর ব্যাক্তিবর্গ।
দেশব্যাপী টিসিবির স্মার্ট কার্ডের এ সমস্যা নিয়ে কথা বলতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে খুলনা বিভাগীয় ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ(টিসিবি)’র আঞ্চলিক কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক (অফিস প্রধান) মোঃ আনিছুর রহমান জানান,২০২২ সালের যে সমস্ত কার্ড নবায়নের পর স্মার্টে রুপান্তর হয়ে তার মধ্য ৪৭ লক্ষ কার্ড বাতিল হয়েছে। আর এ গুলো নতুন তালিকা থেকে নাম নিয়ে রিপ্লেজ করে আগেরটা বাতিল করে নতুন ব্যাক্তির নামে কার্ড করা যাবে।আরো জানান,যে সকল টিসিবির স্মার্ট কার্ডের জটিলতা দেখা দিবে সে গুলোও যাচাই-বাছাই করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত